বিনোদন প্রতিবেদক : ইন্ডাস্ট্রিতে তার বিরুদ্ধে যে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে গেলেন বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। এ সময় তার সঙ্গে ডান্স ডিরেক্টর মাসুম বাবুল, অভিনেতা মারুফ আকিব এবং চিত্রনায়ক জয় চৌধুরীও তার সঙ্গী হয়েছেন।

জানা গেছে মঙ্গলবার বিকালে রওনা দিয়ে বুধবার রাত দেড়টায় শিল্পী সমিতির নেতৃবৃন্দ রাজশাহীতে পৌঁছায়। তারা সেখানকার আগে থেকেই বুক করা সার্কিট হাউজে ওঠেন। এ সময় তাদের অভ্যার্থনা জানান প্রয়াত শিল্পীর স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু এবং কন্ঠশিল্পী মোমিন বিশ্বাস। জায়েদ খান ও তার সঙ্গে অপরাপর শিল্পীদের দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন লিপিকা।

তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে এ সময় এফডিসিতে উল্লেখযোগ্য কেউ না আসায় হতাশা প্রকাশ করেন বলে সেখানে উপস্থিত সার্কিট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যায়নি প্রযোাজক ও পরিচালক সমিতির কোন প্রতিনিধি। অথচ সিনেমায় অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর।

প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামচুল আলম বলেন, আমাদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এ ব্যাপারটি মাথায় রেখে মূলত করোনার কারণেই যাওয়া হয়নি। তবে সমিতিতে এন্ড্র কিশোরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রস্তাব ও এক মিনিটের নিরবতা পালন করা হয়েছে। পরিবেশ পরিস্থিতি ভালো থাকলে অবশ্যই প্রযোজক সমিতি শ্রদ্ধা জানাতে যেতো।

পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, করোনার কারণে যাতায়াত ব্যবস্থায় সমস্যা তাই আমরা যেতে পারিনি। তাছাড়া আজ দুপুরে আমাদের একটা প্রেস মিটিং আছে। এদিকে তারা না গেলেও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গিয়েছেন শিল্পী সমিতির প্রতিনিধিরা। বিষয়টি সর্বমহলে প্রশংশিত হচ্ছে। রাজশাহী থেকে ভক্তরা বলছেন এখানে মূল দায়িত্ব ছিল যাওয়ার প্রযোজক ও পরিচালক সমিতির। শিল্পীরা পাট না। ঢাকা থেকে করোনা উপেক্ষা করে শিল্পীরা এসেছেন রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে তাদের কৃতজ্ঞতা।

এ ব্যাপারে এন্ড্রু কিশোরের শিষ্য কন্ঠশিল্পী মোমিন বলেন, বৌদী আশা করেছিলেন ঢাকা থেকে অন্তত প্রযোজক-পরিচালক সমিতির নেতৃবৃন্দ আসবেন কিন্তু তারা আসেননি এমন কি খুব কম লোকই ফোন করে শান্তনার বাণী শুনিয়েছেন। আমার খুশি যে অন্তত শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে জায়েদ খানসহ অপরাপর নেতৃবৃন্দ এখানে এসেছে। বিশেষ করে এই করোনাকে উপক্ষো করে। তাদের উপস্থিতি দাদার আত্মাকে শান্তি দেবে।

এন্ড্রু কিশোরের স্ত্রী বলেন, সবার প্রিয় এন্ড্রু বেঁচে থেকে তাদের দেখতে পারলে খুব খুঁশি হতেন। তিনি মরেনি সবার হৃদয়ে বেঁচে আছেন। সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন। এ ব্যাপারে জায়েদ খান বলেন, তিনি আমাদের সম্পদ ছিলেন, আছেন, থাকবেন। তার শেষকৃত্যে অংশ নিতে পেরে আমরা গর্বিত।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬ টা ৫৫ মিনিটে না ফেরার দেশে চলে যান কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। দেশ বরেণ্য এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন দেশ বরেণ্য এই শিল্পী। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার ৯ মাস পর গত ১১ জুন রাতে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে জীবন যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে নিতে হয় এই কন্ঠযোদ্ধাকে।