মুক্তমত ডেস্ক : যারা রাজনীতির চোখ দিয়া ধর্ম দেখেন তারা ধর্ম ব্যবসায়ী।ধর্মব্যবসায়ীরা খোলস পাল্টালেও ব্যবসা তাদের এক,নীতি তাদের অভিন্ন।

মুলত আমাদের সমস্যা একটাই চোখের সামনে যে চশমা ব্যবহার করছি তা রাজনীতির চশমা।তাই সবকিছুতেই রাজনীতি খুজি।
ধর্ম স্থির, আর যদি ইসলাম হয় তবে তা সুস্থির। স্থান কাল পাত্র ভেদে ভিন্ন হয়না। কিন্তু কলুষিত রাজনীতির যাতাকলে ধর্ম তার সঠিক মর্ম প্রকাশ করতে বেগ পেতে হয়। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বেঠিক নয়,কিন্তুু ধর্মের মাঝে রাজনীতির ছোঁয়া সুখকর নয়।যে দিন হতে ধর্মের মাঝে কলুষিত রাজনীতির আঁচ পড়তে শুরু করে সে দিন হতে ধর্ম নিয়া টানাটানি শুরু হয়।এই টানাটানি ই আমার মর্ম বেদনার মুল কারন।

অনেক ধর্ম ব্যবসায়ীকে দেখিয়াছি দ্বীনের দাওয়াত এর বদলে রাজনৈতিক দাওয়াতকেই মুখ্যভাবে। এরা আমার বা আপনার সন্তানকে ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনীতি শেখায় কিন্তু নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে এসব কামনা করেনা।আমার বা আপনার সন্তানকে মাদ্রাসায় দিন স্লোগান তুলে আর তাদের সন্তানকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলে। এরা ওয়াজ নসিহত যেখানে যা প্রয়োজন করেন,কিন্তু নিজের সাড়ে তিনহাত শরীরে তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।এইসব বল্গাহীন ধর্ম ব্যবসায়ী দের প্রতি পরিনত বয়সে ঘৃণা জন্মিলে করার কিছু কি থাকে?

বিদআতি রাজনীতি আমাদের উন্নতির অন্তরায়। আমরা সবাই আজ আত্মকেন্দ্রিক। নিজে যা বুঝি তাই সঠিক। অন্যের মতামত আমাদের নিকট অগ্রহনযোগ্য। নিজের আমিত্ব জাহির করতে গিয়ে আমরা হরহামেশাই অবমুল্যায়ন করছি কখনো পরিবারের,কখনো সমাজের, কখনো রাষ্ট্রের মহান ব্যক্তিদের।জীবদ্দশায় যাদের দ্বারা এসব মানুষগুলো অবমুল্যায়িত হয় মৃত্যুর পর তারাই আবার মায়াকান্না শুরু করে দেয়।এরাই ভয়ংকর। শুধু গোষ্ঠী, দল বা আঞ্চলিকতার প্রতিহিংসাই কীর্তিমানের কীর্তি ধর্ষিত হচ্ছে বারংবার। যেখানে গুণীর কদর নেই সেখানে গুনী না জন্মানোটাই স্বাভাবিক। অকৃতজ্ঞ জাতির উন্নতি কখনো হয়না। আমরা অকৃতজ্ঞ হয়েছি ৭৫ সালে, অকৃতজ্ঞ হয়েছি ৮১ সালে। অকৃতজ্ঞ এই দ্বিধাবিভক্ত অপরাজনীতির দোলাচলে কীর্তিমানের কীর্তি বারেবারে অস্বীকার করা হচ্ছে।একথা সত্য পরিবারে সবাই সমান নয়,আর সবার সমান অবদান থাকেনা।তেমনি রাষ্ট্রেও।কেউ রাষ্ট্রের গঠনে, কেউ উন্নয়নে অবদান রাখবে এটাই স্বাভাবিক। স্ব স্ব অবস্থানে এদের অবদান সমহিমায় উজ্জ্বল। রাজনীতির জারজরা এদের অস্বীকার করে দেশটাকে রাবনের চিতা বানিয়ে ফায়দা লুটেই নিচ্ছে।আর বাঘের বাচ্চা গুলো মিউ মিউ করছে। দেশ ও জাতির উন্নয়নে বিদাতি রাজনীতির করালগ্রাস হতে বের হয়ে আসা জরুরি। নতুবা ইতিহাস ঐতিহ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি সব পতনের বেলাভুমিতে এসে এক ভয়াল মুহূর্তের প্রহর গুনবে।

আমাদের প্রচলিত রাজনীতিতে একপক্ষ মনে করে ইসলাম তাদের হাতে নিরাপদ।তাদের কথাবার্তায় মনে হয় তারা ইসলামের ইজারাদার। ইজারাদার দাবীকারী গোষ্ঠী সমুহের মাঝে মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব চরমে।এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে গিয়ে প্রিয় ধর্মকে কলুষিত করে তোলে।এদের দ্বন্দ্ব কে যদি বিশ্লেষণ করা হয় তখন বুঝা যায় এটি ধর্মীয় কোন দ্বন্দ্ব নয়, এটি রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।

আমাদের স্বপ্নের অপমৃত্যু কেন ঘটে?? তা আমি ও জানি আপনি ও জানেন। কারণ আমাদের ভেতর যা বলে বাহির তা বলেনা। বাহিরে যা প্রকাশ পায় ভেতর তা নয়।এমন বৈপরীত্য উদ্দেশ্য কখনো কি সফল হয়?

ওয়াজ যা করা হয় পরের জন্য নিজের জন্য নয়।আমাদের চিন্তা ও মননে রাজনীতি এমন ভাবে ঢুকছে আমরা এর বাহিরে যেতে পারিনা। এমনকি ইসলামের সুন্দর শিক্ষা সালাম দিতেও চিন্তা করি সে কি দ্বীনি ভাই কিনা, বা আমার দলের লোক কিনা।বিপরীত দল মতের লোকদের সাথে চলতে মানা,দাওয়াত দিতে মানা। সব সগোত্রীয় হতে হবে। এসব আমাদের কলুষিত রাজনীতির ফসল।

আরেক পক্ষ হলো এমন তারা ধর্ম নিরপেক্ষতার ধারক বাহক।ইসলামের মূলনীতি সমুহ পরিপালনে তাদের চুলকানি থাকলেও হস্তীমুখ,পেঁচামুখ,ঘোড়ামুখ বা দশভুজা দেবতাদের হাজার বছরের সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দিতে মোটেও লজ্জা পায়না।আবার জনগণের মুখোমুখি হবার সময় আসলে মাথায় টুপি,উমরা পালন, পুরো বক ধার্মিক সাজেন।এখানেও দারুণ চল চাতুরী। বস্তু নির্ভর জরীপ চালালে দেখা যাবে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাপারে যারা সোচ্চার এদের প্রায় সকলেই ইহুদীবাদ ও ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বেনিফিশিয়ারী।মোদ্দাকথা আমাদের রাজনীতি ও রাষ্ট্র সঠিক পথে হাটছেনা। একটা কল্যানরাষ্ট্রের অভিপ্রায়ে সঠিক মুলনীতি প্রণয়নের সদিচ্ছা কোন দল বা গোষ্ঠীর মাঝে আছে বলে মনে হয়না।সবাই আখের গোছাতে ব্যস্ত।এমন জাতিগোষ্ঠী মুখথুবডে পড়ে থাকবে আর উন্নয়নের শ্বেত কবুতর ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রবে একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আমাদের প্রচলিত রাজনীতিতে একপক্ষ মনে করে ইসলাম তাদের হাতে নিরাপদ।তাদের কথাবার্তায় মনে হয় তারা ইসলামের ইজারাদার। ইজারাদার দাবীকারী গোষ্ঠী সমুহের মাঝে মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব চরমে।এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে গিয়ে প্রিয় ধর্মকে কলুষিত করে তোলে।এদের দ্বন্দ্ব কে যদি বিশ্লেষণ করা হয় তখন বুঝা যায় এটি ধর্মীয় কোন দ্বন্দ্ব নয়, এটি রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।

আমাদের স্বপ্নের অপমৃত্যু কেন ঘটে?? তা আমি ও জানি আপনি ও জানেন। কারণ আমাদের ভেতর যা বলে বাহির তা বলেনা। বাহিরে যা প্রকাশ পায় ভেতর তা নয়।এমন বৈপরীত্য উদ্দেশ্য কখনো কি সফল হয়?

ওয়াজ যা করা হয় পরের জন্য নিজের জন্য নয়।আমাদের চিন্তা ও মননে রাজনীতি এমন ভাবে ঢুকছে আমরা এর বাহিরে যেতে পারিনা। এমনকি ইসলামের সুন্দর শিক্ষা সালাম দিতেও চিন্তা করি সে কি দ্বীনি ভাই কিনা, বা আমার দলের লোক কিনা।বিপরীত দল মতের লোকদের সাথে চলতে মানা,দাওয়াত দিতে মানা। সব সগোত্রীয় হতে হবে। এসব আমাদের কলুষিত রাজনীতির ফসল।

বিভেদের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া একটি জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন কিভাবে ত্বরান্বিত হয় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ আমরা। আমরা পেয়েছি মাহাথিরের চেয়েও যোগ্য নেতা কিন্তু ধরে রাখতে পারিনি। পেয়েছি দুরদৃষ্টি সম্পন্ন চৌকস নেতা হারাতে হয়েছে অল্পদিনেই। অভিভাবকহীন এ জাতির খুড়িয়ে খুড়িয়ে পথচলা দেখে অনেকে মুচকি হাসে,আবার অনেকে স্বাধীনতার অসারতা প্রমান করতে চায়।

লেখক : মুহাম্মাদ নুরুচ্ছালাম জিহাদ, ব্যাংক কর্মকর্তা